<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 315 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 17 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 10 )
পারফর্মিং আর্ট ( 10 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 153 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 0 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
বেগম রোকেয়া
 
 বেগম রোকেয়া (মাস্ত্তরা) - সংগীতা সরকার
trans
ভূমিকা
নেত্রকোনা জেলার নারী শক্তির প্রতীক এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান নারী ব্যক্তিত্ব হলেন বেগম রোকেয়া (মাস্ত্তরা)। তিনি জীবনের ভাঙ্গা-গড়ায় নিজের অস্তিত্বকে বিলিন হতে দেননি। যিনি সূর্যাস্ত দেখে কখনও দিশেহারা না হয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ তিনি জানতেন রাতের অন্ধকার কাটলেই নতুন বার্তা নিয়ে উদিত হবে সূর্য ভোরের আকাশে। তাইতো মাস্ত্তরা ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র নারী শক্তিকে একত্রিত করে গড়ে তুলেছেন 'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি'। যেখানে স্থান পেয়েছে নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মুক্তি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সবার জন্য শিক্ষা, গরীব জনগণকে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি নারী মনে স্বপ্নের জাল বিস্তার করেন।

জন্ম ও বংশ পরিচয়
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কাওরাটি গ্রাম। যেখানে বসবাস করতেন আব্দুল আজিজ তালুকদার এবং মিসেস রায়হানা বেগম। আব্দুল আজিজ তালুকদার পাটের ব্যবসা করতেন। রায়হানা বেগম গৃহ পরিচালনা করতেন। এই দম্পতি আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতই জীবন-যাপন করছিলেন। অতিরিক্ত গরমের পড়ে বৃষ্টি নামলে যে প্রশান্তি আসে মনে ঠিক তেমনি জৈষ্ঠ্যের প্রথমে এই দম্পতির জীবনে এসেছিল পরম পাওয়ার দিন। সে দিনটি ছিল ১৩৫৪ সালের ১ জৈষ্ঠ্য (১৯৪৭ইং সালের ১৭ই মে), যখন জন্ম নিলেন বেগম রোকেয়া (মাস্ত্তরা) তিনি মা-বাবার প্রথম সন্তান ছিলেন। মা-বাবার স্নেহ ভালবাসার পরশও তিনি বেশি পেয়েছেন। মাস্ত্তরার চার বোন ও এক ভাই।

ছেলেবেলা/শৈশবকাল
মা-বাবার স্নেহে লালিত হয়ে বড় হতে লাগল মাস্ত্তরা। তিনি জন্মের কিছু সময় পড়েই নেত্রকোনা জেলা শহরের শিবগঞ্জের নিবাসী হলেন। সেখানেই অতিবাহিত হয় মাস্ত্তরার শৈশবকাল। শৈশব যে কোন মানুষের জীবনের সোনালী সময়। মাস্ত্তরার শৈশ বেলাও ছিল বেশ মনোরম ও রোমাঞ্চকর। খুব দুরন্ত ও সাংস্কৃতিকমনা ছিলেন। বান্ধবীদের দলবল নিয়ে নদীর পাড়ে ফসলের মাঠে ঘুরে বেড়াতেন। তার সাথে কারো বাগানের ফুল বা কারো গাছের ফল পাড়তেন। তেঁতুল পাড়া ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। একবারতো তেতুল চুরি করতে গাছে ওঠে ধরা পড়েগেলেন সবাই। যার ফল দাঁড়ায় মার হাতে বকুনি খাওয়া। তিনি বেত গাছের ফল খেতেও খুব ভালবাসতেন। এসব ছাড়াও খেলাধূলা করতেন। গোল্লাছুট, কানামাছি খেলা এবং সবচেয়ে প্রিয় খেলা ছিল হা-ডু-ডু।
অভিনয়, নাচ, কবিতা আবৃত্তি করতেন। নেত্রকোনায় প্রথম রবীন্দ্র জয়ন্তী পালিত হয় সাংবাদিক সত্যকিরণ স্যার-এর উদ্যোগে। মাস্ত্তরা অংশগ্রহণ করেছেন সাংবাদিক আল-আজাদের উদ্যোগে প্রয়োজিত 'ভোটার' নাটকে মাস্ত্তরা অভিনয় করেন। আরো নানা রং-বেরং-এর কত কাহিনী লুকায়িত আছে সেই নদীর তীরে, ফসলের মাঠে। এভাবেই পেড়িয়ে গেল শৈশবের গন্ডি।

শিক্ষা জীবন
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও মা-বাবার আর্শীবাদে তিনি শিক্ষা জীবন শুরু করেন। নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত গ্রহণ করে। চতুর্থ শ্রেণীতে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (তৎকালীন বেসকারি) ভর্তি হয়। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতেন। ছাত্রী হিসেবেও ভাল ছিলেন এবং শিক্ষক/শিক্ষিকাদের বেশ স্নেহের পাত্রী ছিলেন। কিন্তু ৭ম শ্রেণীতে উঠার পর ১৯৬৩ সালে হঠাৎ করে বিয়ে হয়ে যায়। সেই সাথে জীবনের প্রত্যাশার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা এসে ভিড় করে। যার ফলে ৮ম শ্রেণীতে ওঠে পড়াশুনা ছেড়ে দিতে হয়। এখানেই শেষ নয়। কারণ উনার আত্মশক্তির কাছে সকল প্রতিবন্ধকতাকে হার মানতে হয়েছে। তিনি ১৯৬৬ সালে নব উদ্দীপনায় আবার পড়াশুনা শুরু করেন। তার সাথে নিজের মেয়েকে যথাযথভাবে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলা। তিনি এসএসসি, এইচএসসি এবং বিএ প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন। তারপর ময়মনসিংহ মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড করেন। ছাত্র জীবনে সাধারণত সবাই পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু মাস্ত্তরা পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করেছেন সন্তান লালন-পালন করেন।

পারিবারিক জীবন
কৈশোরের গন্ডীতে পা দিতে না দিতেই প্রবেশ করতে হল সংসার জীবনে। ১৯৬৩ সালে বিয়ে হয় মাস্ত্তরার। শুরু হয় জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা। বিয়ের পর দুই মেয়ের মা হন তিনি। দ্বিতীয় কন্যার জন্মের পর সাংসারিক প্রতিবন্ধকতার জন্য স্বামীর বাড়ি ছেড়ে সদ্যজাত শিশুকে নিয়ে চলে আসেন বাপের বাড়িতে। পড়াশুনা আবার শুরু করেন এবং ছাত্র/ছাত্রী পড়াতেন। মেয়েকে স্নেহ, মায়া-মমতা ছাড়াও লালন-পালনের সকল দায়িত্ব উনার উপর ছিল। তিনি সে দায়িত্ব পালনেও সফলতা লাভ করেন। মেয়েদের পড়াশুনা শেষ হলে তাদের ভালো পরিবারে বিয়ে দেন। তিনি পরিবারের সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেছেন।

কর্মজীবন
মাস্ত্তরার কর্মজীবন নেত্রকোনা শহরেই শুরু হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করে। শিক্ষকতা ছাড়াও সামাজিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি নারী শক্তির বিকাশ, নারী নির্যাতন রোধের জন্য কাজ করতেন। স্কুলে ছাত্রীদের পড়াশুনার সাথে সাথে তাদের সুপ্ত প্রতিভা জাগ্রত করণে সদা সচেষ্ট ছিলেন। তিনি চাইতেন কোন ছাত্রী যেন স্কুল থেকে ঝড়ে না পড়ে। তাদের বাল্য-বিবাহ যেন না হয়। ১৯৭০ সালে নারী অধিকার রক্ষণাবেক্ষণের কথা ভেবে মহিলা পরিষদে যোগদেন মাস্ত্তরাসহ অনেকে।
১৯৭২ সালে পূর্ণাঙ্গরূপে মহিলা পরিষদের কমিটি গঠিত হয়। তিনি যথাক্রমে সেক্রেটারী ও সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত।
মাস্ত্তরা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার সেক্রেটারী হন ১৯৭৮ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত। এ সংস্থাগুলোর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল নারী ক্ষমতার সম্প্রসারণ নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নারী নির্যাতন রোধ, বাল্য ও বহু বিবাহের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নারী-পুরুষের বৈষম্য রোধ করা।
সামাজিক প্রগতির জন্য তিনি কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তুলেন 'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি'। ১৯৮৫ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে। সরকারি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে ১৯৮৬ সালে রেজিষ্ট্রেশন হয় এবং স্বীকৃতি পান। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বদাই সচেষ্ট এবং শিক্ষা নিয়েও উনার কার্যক্রমের শেষ নেই।

ক্ষেত্রভিত্তিক অবদান
ক্ষেত্রভিত্তিক অবদান কর্মজীবন থেকে একদমই আলাদা নয়। মাস্ত্তরা অনেক দুঃখ-কষ্টে জীবন-যাপন করেন। অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি অন্য কোন মেয়ে যাতে অল্প বয়সে বিয়ে না করে তার জন্য সচেতনতামূলক কাজ করতেন। নারীর আত্ম উন্নয়ন, নারী শিক্ষা, নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেন। তিনি নেত্রকোনা 'মহিলা পরিষদ'-এর কাজ করেন এবং 'বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থা'-এর সেক্রেটারী পদে নিযুক্ত হন ১৯৭৮-৮১ সাল পর্যন্ত।
মাস্ত্তরার মনে হয়েছিল যে, এই সংস্থাগুলোতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি নারীদের আত্মউন্নয়নে সরাসরি কাজ করার কথা ভেবে নিজের বাড়িতে স্বাবলম্বীর কাজ শুরু করে। তিনি পরে SIDA থেকে ছোট অনুদান পেয়ে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে হস্তশিল্পের কাজ শুরু করেন নিজের একটি সেলাই মেশিন ও সমাজ সেবা অফিস থেকে প্রাপ্ত সেলাই মেশিন এর মাধ্যমে কাজ করা হয়।
সেখানে নারীরা হাতের কাজের মাধ্যমে রোজগার শুরু করে। গীতা ননীপাল তাদের মধ্যে একজন যিনি সেলাই শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতেন।
গরীব, অসহায় ছেলে-মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার কর্মসূচি চালু করলেন। মাস্ত্তরা চন্দ্রনাথ স্কুলের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সকালবেলা উনার স্কুল চালাতেন। 'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি' সম্প্রসারিত করার জন্য সাহায্য দাতাদের সন্ধান করেন। Norwaygian Embassy -এর নারী উন্নয়ন বিভাগ আশ্বাস দেন Fund গঠন করার। NGO ব্যুরো থেকে ১৯৯০ সালে 'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি' রেজিষ্ট্রেশন পান।
১৯৮৫ সালের ২১ অক্টোবর মাস্ত্তরার উদ্যোগে রওশনা আক্তার, অবনিকান্ত রায়, আব্দুল মান্নান চুন্নি, কাজল চক্রবর্তীসহ ১১ জন মিলে 'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি'র নতুন ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮৬ সালের ৩রা জুন সামাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পান ও রেজিষ্ট্রেশন হয়।

কার্যক্রম
স্বাবলম্বীর কার্যক্রম দুই ভাগে বিভক্ত। যেমন-
১। হস্তশিল্প
বিভিন্ন ধরনের হাতের তৈরি কাজ যেমন- নকশি কাঁথা, নকশি করা পোশাক, খেলনা, ওয়ালমেট, বাঁশ-বেতের কাজ, দর্জির কাজ, মোমের কাজ, ব্লক-বাটিক প্রভৃতি।
নারীরা হাতের কাজের মাধ্যমে নিজের ভরণ-পোষণ ছাড়াও সংসারের আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। এতে করে নারীদের উপর শারিরীক অত্যাচার কিছুটা হলেও কমেছে।
নারীদের এখানে কাজের সাথে তাদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন করে তোলে। বাল্য-বিবাহের ফলে কি কি সমস্যা হতে পারে তা তুলে ধরেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য উৎসাহিত করেন।
হস্তশিল্পের পণ্য বিক্রয় এর জন্য নেত্রকোনা শো-রুম রয়েছে। তবে অধিকাংশ পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানি করা হয়। ইতালি, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ফিনল্যান্ডে হস্ত শিল্পের কাজ বর্তমানে রপ্তানি হয়ে থাকে।
স্বাবলম্বীর দাতাদেশগুলোর অধিকাংশ হল ইউরোপিয়। তাছাড়া বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও সু-সম্পর্ক বিদ্যমান। যেমন- নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইংল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেইন ও ইতালি। আমেরিকান দেশ- টেক্সাস, নিউইয়ার্ক, ব্রাজিল এবং সার্কভুক্ত দেশ- ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও ট্রেনিংয়ে গিয়েছেন।
২। শিক্ষা
আমাদের সমাজ পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হল শিক্ষা। এই শিক্ষার জন্য মাস্ত্তরা বিনামূল্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে মাস্ত্তরার স্কুলে। যথা-
ক. পাঁচ বছর বয়সে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা। (১ বছর মেয়াদী)
খ. ঝড়ে পাড়া শিশুদের জন্য তিন বছর মেয়াদী পড়া-শুনার ব্যবস্থা।
গ. চতুর্থ শ্রেণী থেকে অন্য যে কোন প্রতিষ্ঠিত স্কুলে তাদের ভর্তি করা হয়। এবং বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে ২৭টি স্কুলের সাথে এডভোকসি কার্যক্রম রয়েছে। তিনি মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকেন।
স্বাস্থ্য
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও নিয়ম-কানুনের উপর বিশেষ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন। বর্তমানে ২২৮৬টি গ্রামে কার্যক্রম চলছে। (ক) বাড়ি-ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, (খ) নিরাপদ মাতৃত্ব এবং (গ) পরিবার পরিকল্পনা প্রভৃতি।
অধিকার ও সুশাসন
নারীদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে তাদের সচেতন করা এবং সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ঋণ প্রদান নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য হস্ত শিল্পের কাজ ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধান, পাটের জন্য ঋণ প্রদান করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের অবস্থান
'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি' শুরু হয় ভাঙ্গা ঘর থেকে কিন্তু আজ সেই প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। এটি বর্তমানে আঞ্চলিক পর্যায়ের একটি প্রতিষ্ঠান।

ভবিষ্যৎ
'স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি' নিয়ে মাস্ত্তরার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বা প্রত্যাশা হল নারী ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থার সমৃদ্ধি। পুরষ্কার নেত্রকোনা জেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে বেগম রোকেয়া (মাস্ত্তরা) সরকারিভাবে পুরষ্কার পান। (৮ই মার্চ/২০১০)।

স্বাধীনতার অবদান
আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা। মাস্ত্তরা মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা না করলেনও তিনি পরোক্ষভাবে সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। জীবনের বাজী রেখে ধরা পড়ে গেলে কি হবে তা না ভেবে নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর যুদ্ধ শুরু হয়। ২৯ মার্চ মাস্ত্তরা পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে চলে যান এবং মে মাসে ফিরে আসেন।
মাস্ত্তরার নেতৃত্বে সুলতানা রাজিয়া, যুবেদা আক্তার খাতুন ৩ জন টাকা সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের পাঠাতেন। খাবার রান্না করে এবং কাপড় কিনে পাঠাতেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সমস্ত রকমের যোগাযোগ রাখতেন আব্দুল হামিদের মাধ্যমে। আব্দুল হামিদ রাজাকারের অভিনয় করে মুক্তিযোদ্ধাদের বার্তা বহন করতেন।
৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা মুক্ত হল পাক হানাদার বাহিনীদের হাত থেকে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান খোকন, আলাউদ্দিন খান, হায়দার জাহান চৌধুরী, আব্দুর রহিম আরো অনেকে জয় উল্লাসে শহরে প্রবেশ করে মাস্ত্তরার শিবগঞ্জের বাড়িতে ওঠেন। সেখানে বিজয়ের উল্লাস এবং খাওয়া-দাওয়া করেন।

১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষে অবদান
এই দুর্ভিক্ষে জাহানারা স্কুলে ৩,৫০০ জন মা-শিশুকে নিয়ে নোঙ্গরখানা চালিয়েছেন তিন মাস। যেখানে মহিলা পরিষদের ২২ জন সাথে ছিল। এছাড়ও যেভাবে সাধারণ মানুষের যতভাবে সহায়তা করা যায় তিনি করেছেন। উনাকে তখন সবাই রুটি আপা বলে ডাকত।
বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত - - এজিও নেটওয়ার্ক এর সদস্য;
- জেলা লিগাল এইডস কমিটির সদস্য;
- জেল পরিদর্শক;
- জেলা আইন ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য;
- নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য;
- জাতীয় পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সদস্য;
- VHSS -এর সদস্য;
- বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম-এর সদস্য;
- CHMPE-এর সদস্য
- জাহানারা ও চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য।

জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ের কথা। একদিন ভোরবেলা মাস্ত্তরা বাসা থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় আসতেই সামনে এক রোগা মাকে দেখতে পেলেন। কোলে কাপড়ে মোড়ানো শিশু সন্তান ছিল। শিশুটির কঙ্কালসার দেহ শুধু চোখ দুটো মিটমিট করছিল। মাস্ত্তরার কাছে সেই মা খাবারের আবেদন জানায়। মাস্ত্তরা বাসায় গিয়ে অল্প ভাত আর বাচ্চাটার জন্য একটু দুধ নিয়ে এলেন। এই মাকে তিনি আশ্রয়ও দিয়েছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছিল শিশুটি আর বাঁচেনি। সেদিনেই মারা গেল। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আজোও মাস্ত্তরাকে পীড়া দেয়।

অবসর সময়
অবসর সময় মাস্ত্তরার তেমন নেই বললেই চলে। যতটুকু পান তিনি নারী সম্পর্কিত বইপড়া, জীবনী বিভিন্ন মনীষীদের পড়া এবং গান শুনতে ভালবাসেন। মাস্ত্তরা তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় নারী উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি নারীর সুপ্ত প্রতিভাকে প্রকাশিত করতে সদা সচেষ্ট। তিনি আমাদের নেত্রকোনার গর্ব।

Share on Facebook
Gunijan

© 2017 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by .