<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 317 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 17 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 10 )
পারফর্মিং আর্ট ( 11 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 154 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 0 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
গোপাল দত্ত
 
 গোপাল দত্ত - বীণা রাণী বিশ্ব শর্ম্মা
trans
ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে যেমন ত্যাগ রাজের নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়, নেত্রকোনা সঙ্গীতের জগতে তেমনি এক মহান পুরুষ ওস্তাদ গোপাল দত্ত। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অতলান্ত সৌন্দর্যকে তিনি তুলে ধরেছিলেন সাধারণ মানুষের কাছে। ওস্তাদ গোপাল দত্ত সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেননি। তাঁর যাপিত জীবনও কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। জন্মে ছিলেন ১৯২৯ সালে নেত্রকোনার বার হাট্টা উপজেলার এক দরিদ্র কায়স্থ পরিবারে। কিশোর বয়সেই তিনি পিতা-মাতা উভয়কেই হারান। ফলে বাউসী অর্ধচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবনও সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তবে এ উচ্চ বিদ্যালয়েরই বার্ষিক সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে খালি গলায় গান গেয়ে তিনি তাঁর সঙ্গীত প্রতিভার প্রথম ঝলকটি দেখান এবং আদায় করে নেন সেরা গায়কের স্বীকৃতিটুকুও। গুণীজনদের অকুণ্ঠ প্রশংসায় তিনি সিক্ত হন এবং নিবিড়ভাবে মিশে যান ওস্তাদ গোপাল দত্ত সঙ্গীতের সঙ্গে।

তখন মামা খ্যতিমান সেতারবাদক বীরেন্দ্র কিশোর দত্ত মহাশয়ের উৎসাহ তাকে আরো উৎসাহিত করে। গানের নেশায় পাগল কিশোর গোপাল দত্ত চলে আসেন নেত্রকোনা শহরে এবং প্রখ্যাত বংশীবাদক মণি বিশ্বাসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বস্তুত তাঁর কাছেই গোপাল দত্তের সঙ্গীতের প্রাতিষ্ঠানিক হাতে খড়ি। এ সময় ওস্তাদ ফুল মুহম্মদ খান বছর দুয়েক নেত্রকোনায় ছিলেন। তাঁর কাছে তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন। এতেও সঙ্গীত পিপাসার্ত শিল্পী গোপাল দত্তের সঙ্গীতের তেষ্টা মেটেনি। গোপাল দত্তের শৈশব-কৈশোর কেটেছিল সঙ্গীতে। সঙ্গীতের পিপাসা তাকে টেনে নিয়ে যায় কলকতায়। তিনি কলকাতায় নানা কষ্টে জীবন-যাপন করতে শুরু করেন। জীবন বাঁচাতে কাজ নেন এক পানের দোকানে এবং সঙ্গীতের সুধারস আকণ্ঠ পান করতে অনেক কষ্টে খুঁজে বের করেন পরম গুরু বাংলার গৌরব চিন্ময় লাহিড়ীকে। তার সুর ধ্বনিতে ১৩ মাস সঙ্গীতের তালিম নেন তিনি। এক দিকে অতিরিক্ত কায়িক শ্রম অন্যদিকে নীরবচ্ছিন্ন সঙ্গীত সাধনা মিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নেত্রকোনায় চলে আসেন। তখন তিনি বেকার। এ সময় বিশিষ্ট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী বিমল দাসের সহায়তায় বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে সামান্য বেতনে তবলা বাদকের একটা চাকরি পান। পরে ওস্তাদ বিমল দাস চলে গেলে তিনিও তবলাবাদকের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নেত্রকোনায় এসে সঙ্গীতের শিক্ষকতা শুরু করেন। কৈশোরে পিতার মৃত্যুর পর থেকে দারিদ্র্য কোনো দিন তার পিছু ছাড়েনি। অভাবের তাড়নায় তিনি বাধ্য হয়ে যাত্রাদলে সঙ্গীত শিক্ষকের কাজ নেন। এভাবে তাঁর বাড়িতে সব সময়েই শিষ্য গায়কদের ভীড় লেগেই থাকত। এদের কেউ থাকত কয়েকদিন, কেউ কয়েক সপ্তাহ আবার কেউ কয়েক মাস। এদের ভরণ-পোষণের জন্য তারাই সাহায্য করতেন। মানুষ তাঁকে এত সম্মান করত তাঁর যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য শিষ্যরা এগিয়ে আসতো। ২০ বছর বয়সে তিনি বিবাহ করেন। তাঁর স্ত্রীর নাম মীরা দত্ত। এভাবে কিছুদিন চলার পর এক বন্ধুর উৎসাহে তিনি চলে যান সুনামগঞ্জে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত সিলেট বেতার থেকে আধুনিক, রাগ প্রধান ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। একযুগ সিলেট বেতারের সঙ্গে কাজ করে ১৯৭৭ সালে পুনরায় ফিরে আসেন নেত্রকোনায়।

১৯৭৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বেতারের নিয়মিত শিল্পী (ষ্পেশাল গ্রেড) ছিলেন। তিনি ছিলেন সঙ্গীত রচয়িতা, সুরস্রষ্টা ও শিক্ষক। তাঁর বহু ছাত্র এখন বাংলাদেশ বেতার ও আকাশ বাণীর প্রথতযশা শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তাঁর রচিত ও সুর করা বেশকিছু গান এখনো নিয়মিত ঢাকা ও কলকাতা বেতারে পরিবেশিত হয়। ওস্তাদ গোপাল দত্ত তাঁর সঙ্গীত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে শিল্পকলা একাডেমী পুরষ্কার, শুদ্ধা সঙ্গীত প্রসার গোষ্ঠী পুরষ্কার, নেত্রকোনা জেলা উদীচীর সম্মাননা পুরষ্কার, মহুয়া থিয়েটার সম্মাননা পুরষ্কার এবং সর্বশেষে নেত্রকোনা সংস্কৃতি সম্মেলন পরিষদ সম্মাননা পুরষ্কার পেয়েছেন। সর্বোপরি তিনি নেত্রকোনার আপামর জনসাধারণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছেন অকুণ্ঠভাবে।

তিনি বড় ভালোবাসতেন নেত্রকোনাকে এবং নেত্রকোনার মানুষকে। সঙ্গীত শিক্ষক হিসাবে গোপাল দত্ত ছিলেন অসাধারণ। তাঁর অসংখ্য শিষ্য সুরকার, গীতিকার গায়ক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন। তিনি কাজের সন্ধানে নানা জায়গায় গিয়েছেন কিন্তু বারবারই ফিরে এসেছেন নেত্রকোনায়।

বস্তুত তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সচেতন পরিচর্যায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতাঙ্গণটি অর্ধ শতাব্দীর অধিককালব্যাপী সবচেয়ে বেশি পরিপুষ্ট হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে নেত্রকোনার সংস্কৃতি ও সঙ্গীত জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা পূরণ হওয়ার নয়। নেত্রকোনাবাসী বহুযুগ ধরে এ শূন্যতা অনুভব করবে।

তিনি সকল প্রলোভন জয় করে নেত্রকোনাকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সংলগ্ন সিলেট জেলা ধরে বাংলাদেশের একটা পুরো অঞ্চলকে সঙ্গীত বিদ্যায় উজ্জ্বল করে রেখেছেন।

'সব সঙ্গীতার্থীর আকাক্সক্ষা পূরণের এক অনিঃশেষ প্রস্রবনরূপে ৫০ বছরেরও অধিককাল ধরে কাজ করে গেছেন।' ২০০৩ সালে নেত্রকোনা সাংস্কৃতি সম্মেলন ওস্তাদ গোপাল দত্তের সঙ্গীত প্রতিভার স্বীকৃতি দিয়ে তাঁর সম্মাননা পত্রে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে উপরোক্ত কথাগুলো লিখেছিলেন। নেত্রকোনার সেই কিংবদন্তি সঙ্গীতগুরু ওস্তাদ গোপাল দত্ত গত ২০০৪ সালে ৭ই আগস্টের মধ্যরাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়বেটিকজনিত জটিলতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যু সংবাদে নেত্রকোনার সর্বমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

তথ্যসূত্র : পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক।

Share on Facebook
Gunijan

© 2017 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by .