<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 315 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 17 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 10 )
পারফর্মিং আর্ট ( 10 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 153 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 0 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
খালেকদাদ চৌধুরী
 
 উপন্যাসিক ও সাহিত্য সংগঠক মরহুম খালেকদাদ চৌধুরী - তমাল দত্ত
trans
মহুয়া মালুয়া পাহাড়ের সৌন্দর্যমন্ডিত এবং সমুদ্র কন্যার রাজ্য ভাটি বাংলার আদি মাতা নেত্রকোনায় একটি বীজে রূপিত রাগাদু, যে তার শাখা-প্রশাখা মূল আকৃতি নিয়ে বৃক্ষে পরিণত হয়েছিল এই সেই ব্যক্তি যার নাম 'খালেকদাদ চৌধুরী' তিনি ছিলেন একাধারে কবি গল্পকার-প্রাবন্ধিক, উপন্যাসিক ও সাহিত্য সংগঠক যার পদার্পন সাহিত্য মনোরঞ্জনের প্রতিটি রঙমঞ্চে।

খালেকদাদ চৌধুরীর জন্ম নেত্রকোনা মহকুমা (বর্তমানে জেলা)-র অন্তর্গত মদন থানার চাঁনগাঁও গ্রামে নিজ মাতুলালয়ে তাঁর পৈত্রিক নিবাসছিল ওই নেত্রকোনারই অন্তর্গত আরেকটি থানা আটপাড়া সোনাজোড় গ্রামে। তাঁর পিতার নাম ছিলেন মরহুম নওয়াব আলী চৌধুরী এবং মাতা- মরহুমা নজমুন্নেছা চৌধুরী। আর খালেকদাদ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৭ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী।

শিক্ষাজীবন
নেত্রকোনার একটি গন্ড গ্রাম থেকে রাজধানী শহর কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল খালেকদাদ চৌধুরীর শিক্ষা জীবন কম বয়সেই তাঁর ছাত্র জীবনের সূচনা। কিন্তু তখনকার দিনে একটু বেশি বয়সে স্কুলে ভর্তি করা হত। তার যখন বয়স ৪ থেকে ৫ বছর তখনই তাঁর বাবা তাঁকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। ১৯১৬ সালে রাজেন্দ্রগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পাস করে জাহাঙ্গীরপুর মধ্য ইংরেজি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। এখানেই তাঁর প্রথম তাঁর পাঠ্য বই ছাড়াও অন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। জাহাঙ্গীরপুর মধ্য ইংরেজি স্কুলে তাঁর চার বছর অতিবাহিত হয়।

১৯১৯ সনে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর পরীক্ষায় খালেকদাদ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে জাহাঙ্গীরপুর মধ্য ইংরেজি স্কুল ত্যাগ করেন এবং তাঁর পরের বছর জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে নেত্রকোনা দত্ত হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। নেত্রকোনায় তাঁর অধ্যয়নকাল ছিল ১৯২০ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত। দত্ত হাইস্কুলটি ছিল সে অঞ্চলের একটি সেরা প্রাচীন বিদ্যায়তন এবং অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত। শুধু মেধাবী ছাত্রদেরই ছিল সেখানে ভর্তির অগ্রধিকার। এ সমন্ধে খালেকদাদের নিজের বর্ণনাঃ

নূতন ভর্তি হওয়ার সময় ছাত্রদের পরীক্ষা নেয়া হতো। প্রতি বিষয়ে শতকরা ষাট নম্বর পেলেই শুধু ভর্তি করা হতো। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছিলেন বলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমাকে ভর্তি করা হয় ক্লাস সেভেনে। অসহযোগ আন্দোলনে স্কুল ত্যাগ ছিল খালেকদাদ চৌধুরীর শিক্ষা জীবনের এক বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯২১ সনের জানুয়ারী ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা এটি। খালেকদাদ স্কুল ত্যাগ করে এই আন্দোলনে যোগ দেন এবং এক বহ্নৎসবে পিকেটিং করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। কিছুদিন পরে অবশ্য এই স্বদেশী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে আসে এবং ছাত্ররাও যার যার বিদ্যালয়ে ফিরে আসতে শুরু করে। খালেকদাদ চৌধুরীর পিতা- পুত্রের স্কুল ত্যাগকে কোনভাবেই সমর্থন করতে পারেননি। অবশেষে তিনি খালেকদাদকে কলকাতা নিয়ে যান এবং সেখানে কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা, হেয়ার স্কুল, মির্জাপুরের সাবেক জুবিলী হাইস্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে ঘুরে দেখান। অসহযোগের কোন চিহ্ন নেই সেখানে। এই দেখে তিনি পিতার সাথে নেত্রকোনা ফিরে আসেন এবং অন্যান্য সহপাঠীর মত তিনিও ক্লাসে যোগ দেন। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।

অসহযোগের ভাব কেটে গেলে খালেকদাদ পড়াশুনায় মনযোগী হয়ে উঠেন এবং ১৯২৪ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চতর শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে পিতার সাথে কলকাতায় চলে আসেন। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য তিনি প্রথমে অনায়াসেই প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তির অনুমতি পান। কিন্তু পরে তিনি তাঁর থাকার জায়গার নিকটবর্তী রিপন কলেজে ভর্তি হন। সেই কলেজে তিনি ১৯২৬ সালে আইএ পাশ করেন এবং ইসলামিয়া কলেজে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ-তে ভর্তি হন। কলেজটি সে বছরই প্রথম খোলা হয় এবং এর প্রতিষ্ঠার মূলে ছিল শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং ধনবাড়ির জমিদার নবাব আলী চৌধুরীর অবদানই মুখ্য। সাংসারিক জীবনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় খালেকদাদের পড়াশুনা বিঘ্নিত হয়। তিনি যখন অনার্স পরীক্ষাটি দিচ্ছিলেন তখন শোনেন যে, তাঁর পিতৃ ঋণের জন্য এক সুদখোর হিন্দু মহাজন নাকি আদালত মারফৎ তাদের সমস্ত সম্পত্তি ক্রোক করেছে এবং অতি সত্বরই তা নিলাম হয়ে যাবে। পরীক্ষার ফল যখন বেরুলো তখন দেখা গেল অনার্সে তিনি উৎরেছেন ঠিকই, কিন্তু ইকনমিক্সে ফেল করায় শেষ পর্যন্ত অনার্সও জোটেনি। তিনি ইচ্ছে করলে অনার্সের পরিবর্তে পাস নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে পরের মাসেই কলকাতা সিটি কলেজে ভর্তি হন এবং যথাসময়ে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে ফাইনাল পরীক্ষার ফিসের টাকা নিতে বাড়ি আসেন। এই আসাই তাঁর উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেয়। তাঁর অভিভাবক তাঁকে ফিসের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। উপরুন্তু সংসারের টানাটানির দোহাই দিয়ে তাঁকে চাকুরি গ্রহণের জন্য চাপ দেয়। খালেকদাদ অগত্যা তাতেই রাজি হন।

সংসার জীবন
বর্তমান যুগে শুধু স্বামী-স্ত্রীকেন্দ্রিক যে ধরনের একক সংসার জীবন-যাপনের রীতি রয়েছে, খালেকদাদের সংসার-জীবন ঠিক তেমনটি ছিল না। জমিদারি প্রথার অধীন বিস্তর ভূ-সম্পত্তি নির্ভর খালেকদাদের সংসার জীবন ঠিক অর্থাৎ পরিবারটি ছিল সঙ্গগত কারণেই একটি যৌথ পরিবার বিশেষ। এই পরিবারের একজন জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে তাঁকে কী অবস্থায় বিয়ে করতে হয়, তা আগেই উল্লিখিত হয়েছে। যখন তাঁর বয়স বিশ, তখন ছাত্র অবস্থায় তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত পিতার একান্ত ইচ্ছায় বিয়ে করেন। বিবাহিত নববধুটি ছিল তাঁর নিজেরই খালাতো বোন। নাম হামিদা চৌধুরী। বিয়েটা হয় ১৯২৭ সালে অক্টোবর মাসে। ওই বছরই এপ্রিল মাসের দিকে তার সঙ্গে খালেকদাদের কাবিন হয়ে গিয়েছিলো। রুসমত অর্থাৎ বৌ তুলে আনার অনুষ্ঠান হয় অক্টোবর মাসে।

সেহেতু তাদের পরিবার ছিল অনেকটা যৌথ ধরনের, সেহেতু খালেকদাদ বৌকে নিয়ে প্রথম অবস্থায় স্বতন্ত্রভাবে কোন সংসার পাতেননি। তার প্রয়োজনও তখন দেখা দেয়নি। তিনি তখন ছাত্র, তার শিক্ষাজীবনের আলোচনায়ই ইতিপূর্বে তা বিবৃত হয়েছে। বৌ থাকতেন বেশিরভাগ সময় তাঁর দেশের বাড়িতে, কিংবা তার নিজ মাতুলালয়ে। ছাত্রজীবন শেষে চাকুরিতে প্রবেশ করে তিনি তাঁর স্ত্রীকে কলকাতা নিয়ে যান, কিন্তু যুদ্ধের বছরে আবার তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তাঁর স্ত্রী সত্যিকার অর্থেই একজন পতিপ্রাণা ছিলেন।

তাঁর শ্বশুর নওয়ার আলী চৌধুরী পড়াশুনা বিঘ্নিত হতে পারে এই আশংকায় তাঁর ছেলেদের কখনও সংসারের কাজ-কর্মে জড়াতেন না। এই দিক থেকে খালেকদাদের সংসার ব্যাপারে পূর্ব থেকেই অভিজ্ঞতা ছিলো। তাই তাঁর পিতার মৃত্যুর পর সঙ্গত কারণেই তিনি দিশাহারা হয়ে পড়েন এবং অন্যের অভিভাবকত্বের ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় পরবর্তীতে তাঁর অনেক ক্ষতি হয়। উচ্চশিক্ষার দুয়ার পর্যন্ত রুদ্ধ হয়ে যায়। সে সময় তার স্ত্রী তাকে সাহস যোগায়। তিনি তার স্বামীকে পাঁচটি সন্তান উপহার দেন তিন পুত্র ও দুই কন্যা।

মুক্তিযুদ্ধে খালেকদাদের নিজেরও উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় অংশ ছিল। খালেকদাদরা ঠিক কবে নেত্রকোনা শহরে বাসস্থান গড়ে তোলেন এ সম্পর্কিত তথ্যানুসন্ধানে যেটুকু জানা গেছে, তা হলো তিরিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের যৌথ ধরনের পরিবারের কেউ কেউ নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া অঞ্চলে নিজ নিজ ঘরবাড়ি নির্মাণ করেন। খালেকদাদের দাম্পত্য জীবন ছিল অত্যন্ত সুখের। এ জীবনের স্থিতিকাল ছিল দীর্ঘ একান্ন বছর। তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয় ১৯৭৮ সালে। এ সম্বন্ধে খালেকদাদের নিজের কথাঃ
১৯৭৮ সালের জুলাই মাসে আমার স্ত্রী আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিন দিন তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তাঁকে এম্বুলেন্স যোগে ঢাকা নিয়ে যাই এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি, চিকিৎসা চলে। প্রথমদিকে উন্নতি হয়। ছয় দিন পর আমি নেত্রকোনা চলে আসি। চার পাঁচ দিন পর জানতে পারি যে রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ, ঢাকা পৌছে সোজা আমার বড়ো ছেলে শাহজাহান চৌধুরীর বাসায় ঢুকেই দেখতে পাই বারান্দায় একটি খাটিয়া। সেদিন ছিল ২৮ জুলাই ১৯৭৮। সেদিন ফজরের সময় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর নির্দিষ্ট কক্ষেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জীবন ও সাহিত্য
ভুলোমন জাতির কাছে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ব্যক্তি হচ্ছে কবি শিল্পী-সাহিত্যিকরা। এদের অবদান ও পরিচিতি আমরা সবচেয়ে ভুলে যাই। এই ভুলে যাওয়া মানুষদের নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্যই হয়তো বাংলাদেশে মানুষের রক্তের দামে অর্জিত প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমী হাতে নিয়েছে 'জীবনী গ্রন্থমালা' শীর্ষক একটি প্রকাশনা প্রকল্প। আমাদের ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত এই বিশেষ 'জীবনী গ্রন্থমালা' প্রকাশিত করা হয়। এই অভিনন্দিত প্রকল্পের অধীনে এবং এক ব্যক্তির জীবনী গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যিনি শুধু নেত্রকোনার গর্বের সন্তানই নন, বাংলাদেশের অন্যতম সাহিত্য ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। তাঁর নাম খালেকদাদ চৌধুরী। কবি ও বিশিষ্ট গবেষক ইমামুর রশীদ লিখিত এই জীবনী গ্রন্থে রয়েছে খালেকদাদ চৌধুরীর জীবন, দর্শন ও সাহিত্য কথা ৫৭ পৃষ্ঠার এই বইটির সূচিপত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যায় লেখক কেমন করে লিখেছেন খালেকদাদ চৌধুরীর জীবন কথা। তারপর একে একে শিক্ষাজীবন, সংসার জীবন, কর্ম ও সাহিত্য জীবন, চরিত্র বৈশিষ্ট্য; শেষে জীবন ও মৃত্যু রচনাপঞ্জি পরিচিতি, সমকালীন প্রতিক্রিয়া এবং সবশেষে জীবন দর্শন ও সাহিত্য বৈশিষ্ট্য বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ হয়েছে বইটিতে। এক সুস্থ স্বাভাবিক পরিপূর্ণ মানুষ বলতে যা বোঝায় তাই ছিলেন তিনি। দেশ, সমাজ, সংসার সম্পর্কে আদর্শনিষ্ঠ এই লোকটি ছিলেন নিজের কর্ম ও বিশ্বাসে আন্তরিক। যখন যে কাজে নিয়োজিত হয়েছেন তখন অন্য কোন কিছুর দিকে তাকাননি। তাঁর কর্ম জীবন শুরু হয় উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনামলে কলকাতা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে। পরে যুক্ত হন সাংবাদিকতার কাজে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের নবযুগ পত্রিকায় তিনি ছিলেন সহ-সম্পাদক। 'দৈনিক কৃষক' এ সাংবাদিকতা বিভাগে তিনি কাজ করেন অবসর জীবনের আগ পর্যন্ত।

খালেকদাদ চৌধুরী একাধারে ছিলের সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক, অনুবাদক। খালেকদাদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর সুনেত্র প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, শতাব্দীর দুই দিগন্ত। তার সম্পাদিত 'সৃজনী ও উত্তর আকাশ' বাংলাদেশের সাময়িকীর ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

দুনিয়ায় গরীরের বেঁচে থাকার কোন হক নেই। দারিদ্র্য তিলে তিলে তাকে নিষ্পেষিত করে মিসমার করে দেয়। যার মুখ দিয়ে এই নির্মম সত্য কথা উচ্চারিত হয়েছে তিনি একটি উপন্যাসের চরিত্র মানবতাবাদী কথা সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরীর উপন্যাস। একটি আত্মার অপমৃত্যুর নায়ক ময়নার মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছে লাঞ্চিত মানবতা সংক্রান্ত এই চরম বাণী।

কাহিনী হচ্ছে মানব জীবনে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা প্রবাহ। বাস্তবের ঘটনা। মানুষের মন-মানসিকতায় ঘটে যাওয়া ঘটনা, প্রেম-ভালবাসা, হিংসা, প্রতিশোধ, যা কিছু জীবনের অংশ, তার সব কিছুই উপন্যাসের বিষয়বস্ত্ত হতে পারে। বিশ্লেষকরা উপন্যাসের যে আদি উৎসস্থলের অনুমান করেন তা হচ্ছে মহাকাব্য। মহাকাব্যের গল্প কাহিনী থেকে এসেছে উপন্যাস।

খালেকদাদ চৌধুরী তার সুদীর্ঘ ৭৮ বছর বয়সের প্রায় সবটুকু সময়ই ব্যয় করেছেন লেখালেখির পেছনে। ১৯৪৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরি পেয়ে খালেকদাদ চৌধুরী নেত্রকোনায় চলে আসেন। সরকারের গণসংযোগ বিভাগের এ চাকরিটি তাঁকে নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের গণমানুষের সাথে মেশার এবং তাদের জীবন সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেয়। ১৯৬১-তে তিনি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। খালেকদাদ চৌধুরীর সাহিত্য জীবনের শুরু ছাত্র জীবন থেকে। তিনি শতাব্দীর দুই দিগন্ত গ্রন্থে তাঁর সাহিত্যের প্রেরণা লাভের উৎস হিসেবে পিতার কাছে শোনা ইতিহাসের বীরত্বপূর্ণ কাহিনীর কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯২৩ সালে তাঁর লেখা প্রথম পত্রিকায় ছাপা হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সে প্রত্রিকাটির নাম 'বিকাশ'। ঐ সময়ে সেখানে কবি বন্দে আলী মিয়া সহ-সম্পাদকের পদে কাজ করতেন। ডাকে পাঠানো সে লেখাটি ছিল একটি কবিতা। পরে অনেক ছোট গল্পও ছাপা হয়। ১৯৮৩ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী বাংলা একাডেমী পুরষ্কার লাভ করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় শৈশব থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত (১৯৮৫ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। অবিরাম লেখালেখির মধ্যে নিয়োজিত এই মানুষটির সব লেখা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি।

Share on Facebook
Gunijan

© 2017 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by .