<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 311 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 16 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 10 )
পারফর্মিং আর্ট ( 10 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 150 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 0 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
নয়ন মিয়া
 
 নয়ন মিয়ার জীবনী (নাট্যকার) - হাবিবা আক্তার
trans
১৯৩০ সাল। সবেমাত্র কিশোরটি অভিনয়ে যোগ দিয়েছে। এক দিন কিশোরকে নিয়ে রাজবাড়ির লোকেরা গিয়েছিল কলকতায়। তখন কলকাতায় লোকদের মুখে শোনা যাচ্ছিল যে জমজমাট একটি নাটক হবে। নাটকটির নাম সিরাজদ্দৌলা। তখন রাজপরিবার এবং কিশোরটি দেখতে গেল সেই নাটক। যিনি সিরাজদ্দৌলার অভিনয় করছেন তিনি মঞ্চে আসার সময় সেই কিশোরটি দুই হাত নাড়িয়ে বলতে থাকে এই অভিনয় হয়নি, এভাবে নবাবকে অবমাননা করা হচ্ছে। তখনকার লাটসাহেব এসে বললেন তুমি কি আমাদেরকে সিরাজদ্দৌলার অভিনয় করে দেখাতে পারবে? তখন সেই কিশোরটি বলল আমার কথামত যদি মঞ্চ সিংহাসন এবং শিল্পিদের তৈরি করা হয় তাহলে আমি নিশ্চয় অভিনয় করে দেখাতে পারব। তখন লাট সাহেব বললেন ঠিক আছে তোমার কথামত সব তৈরী করা হবে। আর যদি তুমি আমাদেরকে অভিনয় করে না দেখাতে পার তাহলে তোমার শাস্তি কি তা তুমি জান?

তখন সেই সাহসী যুবক বলে উঠল জানি। তখন সারা কলকাতার মানুষদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করে দেওয়া হল বাংলার একজন মানুষ সিরাজদ্দৌলার অভিনয় করে দেখাবে। তখন কলকাতার মানুষদের মধ্যে হৈ-চৈ শুরু হয়ে গেল। নির্দিষ্ট দিনে সবাই যাত্রা দেখতে এসেছে। সবার মাঝে একটি বিরাট উত্তেজনা। যথাসময়ে নাটক শুরু হল। অভিনয়ের কিছু অংশ দেখে লাট সাহেব মুগ্ধ হয়ে তাঁর নিজের হাতের ঘড়িটি উপহার হিসেবে ছুঁড়ে মারে। কিন্তু কিশোর সেটি গ্রহণ না করে সেটি ভেঙে ফেলে। পরে তাকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান আমি যতক্ষণ এই মঞ্চে আছি ততক্ষণ আমি বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা। আমি যে জায়গায় আমার প্রজাদের মণি-মুক্তা দান করি সে জায়গায় এই সামান্য ঘড়ি কিছুই না। এই সাহসী এবং আত্মপ্রত্যয়ী কিশোরটি হল মোহাম্মদ হাশিম উদ্দিন। যিনি এখন সবার কাছে নাট্যকার নয়ন মিয়া নামে পরিচিত।

জন্ম ও বংশ পরিচয়
বাংলা ১৩২৬ বঙ্গাব্দে ১৯২০ সালে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলা পূর্বধলা গ্রামে নয়ন মিয়া জন্মগ্রহণ করেন। নয়ন মিয়ার বাবার নাম সদরউদ্দিন। নয়ন মিয়া বাবা-মার একমাত্র সন্তান ছিলেন। নয়ন মিয়া ছিলেন শেখ বংশের।

শৈশবকাল
নয়ন মিয়ার যখন সাত বছর তখন তাঁর বাবা মারা যায়। আর দশটা সুখী পরিবারের মত নয়ন মিয়াদের পরিবার ছিল না। তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর তাদের অভাব দেখা দেয়। শৈশবকালে রাজবাড়িতে নাটক দেখে নিজেই নাটক করার জন্য সিদ্ধান্ত নেন। নয়ন মিয়া অনেক সময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করত। তাঁর অভিনয় দেখে তার মা শুধু হাসতেন। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি রাজবাড়ির নাটকে যোগ দেন। এই থেকে তাঁর অভিনয় শুরু। এছাড়া তিনি খেলাধুলায় অনেক কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। তিনি প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করতেন। সমাজে ছোটদের মাঝে তাঁর নাম ডাক ছিল। আর তিনি প্রত্যেকটি কাজ সাহসের সাথে করতেন। এভাবেই তাঁর শৈশবকাল কেটে যায়।

চরিত্র
নয়ন মিয়া একজন সচ্চরিত্রের এবং সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। নয়ন মিয়া কখনও কাউকে মনে কষ্ট দিয়ে কথা বলতেন না। তিনি সবসময় মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তিনি সর্বদা মানুষকে সৎ পরামর্শ দিতেন। তাঁকে সবাই খুব ভালবাসত। তিনি ছোটবেলায় অনেক দুষ্ট ছিলেন। কিন্তু কোন জায়গায় গিয়ে সে কোন রকম দুষ্টুমি করত না। ছোটবেলায় দুষ্ট হলেও অপরের ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ করতেন না। নয়ন মিয়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। নামাজে কখন ফাঁকি দিতেন না। তিনি একজন কর্মঠ ব্যক্তি ছিলেন। গরীব লোকজনকে তিনি সাহায্য করতেন। তিনি কখনও ঝগড়া-বিবাদ করতেন না। তিনি ঝগড়া-বিবাদ মোটেও পছন্দ করতেন না। তিনি বৃদ্ধদের মান্য করতেন। তাঁর বাড়িতে কেউ আসলে খালি হাতে ফিরে যেত না। তিনি গরীব-ধনী সবাইকে সমান করে দেখতেন। তিনি সকল মানুষকে ভালবাসতেন।

শিক্ষা জীবন
নয়ন মিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গৃহ থেকেই। ১৯২৬ সালে নয়ন মিয়া শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পূর্বধলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয়ন মিয়া প্রথম শ্রেণী হতে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তাঁর মেধা এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। তাঁকে নিয়ে শিক্ষকরা এবং মা-বাবা খুব গর্ব করতেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিটি কাজে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি সাধারণত প্রতিবাদী ছিলেন। কেউ কোন অপরাধ করলে সাথে সাথে তিনি প্রতিবাদ করতেন। তিনি বরাবরই শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করতেন। নবম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় নয়ন মিয়াকে দ্বিতীয় স্থানে উত্তীর্ণ ঘোষণা করায় তিনি ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানান। নয়ন মিয়া হেডস্যারের কাছে গিয়ে তাকে পুনরায় খাতা দেখানোর জন্য অনুরোধ জানান। শিক্ষক তাঁর কথা অনুযায়ী তাঁকে আবার সব খাতা দেখোনো হয়। তিনি দেখেন যে গণিত খাতায় তার সঠিক অঙ্ক ভুল হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্য গণিত স্যারকে খাতাটি দেখালে তিনি অঙ্কটি সম্পূর্ণ নির্ভুল বলে ঘোষণা কনেন। ফলে দশ নাম্বার পেয়ে নয়ন মিয়া আবার প্রথম স্থান অধিকার করেন। এই কথা নিয়ে কাটাকাটি করার পর তার শিক্ষা জীবনের অবসান ঘটে।

মেধা
নয়ন মিয়া কিশোর থেকেই মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন। তাঁর মেধার সবাই তারিফ করত। আর শিক্ষকরা তাকে নিয়ে গর্ব করতেন। তিনি পূর্বধলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি প্রথম শ্রেণী হতে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিলেন। তিনি সব ক্লাশেই প্রথম স্থান অধিকার করতেন। যে কোন জিনিস নয়ন মিয়া সহজে বুঝে ফেলতেন। তিনি যে কোন কাজ বুদ্ধি দিয়ে বিচার করতেন।

কর্মজীবন
রাজবাড়িতে অভিনয় করার পর থেকেই নয়ন মিয়ার কর্মজীবন শুরু হয়। নয়ন মিয়া নিয়মিত রাজবাড়িতে অভিনয় করত। এক সময় রাজবাড়ির লোকেরা তাঁকে নিয়ে গেল কলকাতায়। কলবাতায় গিয়ে নয়ন মিয়া একটি রেকর্ড কোম্পানিতে যোগ দান করেন। সেই রেকর্ড কোম্পানিতে তখন সিরাজদ্দৌলার অভিনয়ের রেকর্ডিং চলছে। নয়ন মিয়া নিয়মিত রেকর্ডিং-এর কাজ শুরু করেছে। এমন সময় মায়ের টেলিগ্রাম পেয়ে নয়ন মিয়া বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে কয়েকদিন থেকে আসতে চাইলে নয়ন মিয়ার মা কান্নাকাটি করে তাকে নিজের কাছে রেখে দেন। এর কয়েকদিন পরে তাঁর স্ত্রী মারা যায়। স্ত্রী মারা যাওয়াতে নয়ন মিয়া মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার মা তাঁকে আবার অভিনয়ের জন্য কলকাতায় পাঠান। ফলে তাঁর আবার কর্মজীবন শুরু হয়।

জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা
নয়ন মিয়ার জীবনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বহু। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বর্ণনা করা হলঃ নয়ন মিয়া একদিন দিনাজপুরের এক ক্লাবে গিয়েছেন। যখন গিয়েছেন এর কয়েক দিন পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। তখন এত যানবাহন ছিল না। যে যানবাহনগুলো ছিল সবগুলো ছিল বন্ধ। নয়ন মিয়া দিনাজপুরে আটকে গেলেন। বাড়িতে তিনি কোন খবর পাঠাতে পারছেন না। এমন সময় বাড়িতে এক লোক এসে জানিয়ে গেল যে নয়ন মিয়া মারা গেছে। তখন পরিবারের সবাই কান্নাকাটি জুড়ে দিল। বিদ্যুৎ এর বেগে খবরটি ছড়িয়ে পড়ল। কিন্তু আসলে নয়ন মিয়া মারা যায়নি। যেই লোক মারা গিয়েছে তাঁর নামও ছিল নয়ন মিয়া। দীর্ঘ সাত মাস পরে তিনি বাড়ি ফিরে আসলেন। সবাই অবাক হয়ে গেল। বাড়িতে ফিরে এসে তিনি আগেরমত জীবন-যাপন করতে লাগলেন।
ঘটনাটি নয়ন মিয়া ছোট থাকতে। যখন নয়ন মিয়ার বয়স ছয় বা সাত বছর। একদিন নয়ন মিয়া দুপুরে পায়খানা করতে বেড়িয়েছে। যথাসময়ে পানি নিয়ে পায়খানা করার জন্য ঢুকছে। এমন সময় চিৎকার। কে চিৎকার দিল। চিৎকার শুনে নয়ন মিয়ার চাচা, চাচী, দাদা, দাদী ও বাবা মাসহ আরো অনেকে ছুটে আসেন। এসে যা দেখেন তা খুবই হাস্যকর। গাছের মগডালে একটি মইসাপ ছিল। তা দেখেই চিৎকার করেছে নয়ন মিয়া। নয়ন মিয়া সাপ দেখে ভয় পায়। সব ঘটনা সবাই জেনে গেলে সবাই সে কি হাসি যেন আর থামতেই চায় না। সেদিন সবার সামনে নয়ন মিয়া খুব লজ্জা পেয়েছিল।
নয়ন মিয়া তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর একজন ছাত্র। বৈশাখ মাস সবে শুরু হয়েছে। নয়ন মিয়া তখন মা বাবাকে নিয়ে মামার বাড়ি বেড়াতে গেল। তখন প্রচন্ড গরম। চারদিকে রুক্ষ-শুষ্কতা। মাটি ফেটে চৌ-চির। একদিন বিকেলে হঠাৎ উত্তর-পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমল। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাতে লাগল। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া বইতে লাগল। সন্ধ্যা না হতেই সমস্ত আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেল। বাতাসের ঝাপটা উত্তরোত্তর বেড়েই চলল। নয়ন মিয়া তখন এক অজানা ভয়ে আতঙ্ক। ক্রমে রাত বাড়ছে। নয়ন মিয়া তার মামার সাথে বসে রেডিওতে খবর শুনছে। খবর স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না। তবুও নয়ন মিয়ার মামা কানে রেডিও ধরে খবর শুনার চেষ্টা করছে। হঠাৎ করে ঘরের একটি টিন বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেল। তখন নয়ন মিয়া ভয়ে কাঁদতে শুরু করেছে। আস্তে আস্তে সকাল হয়ে এল। নয়ন মিয়া কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে টের পায়নি। ঘুম থেকে উঠে দেখে মামা-মামী সবাই ঘর পরিষ্কার করছে। আর বাবা-মা ঘরের আসবাবপত্র ঠিক করছে।

যাত্রাদলে অংশগ্রহণ
জমিদার বাড়িতে যাত্রাপালা দেখে নয়ন মিয়ার অভিনয় করার শখ জাগে। তিনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিয়মিত অভিনয়ের চর্চা করতেন। হঠাৎ করে একদিন যাত্রাদলের নয়ন মিয়া খুব সুন্দর করে অভিনয় করে দেখান। যাত্রাদলের লোকজনেরা নয়ন মিয়ার অভিনয় দেখে তাদের সাথী করার জন্য আহবান জানয়। পরে নয়ন মিয়া যাত্রাদলে লোকজনের সাথে অভিনয়ের চর্চা শুরু করেন।

জীবনের লক্ষ্য
নয়ন মিয়ার লক্ষ্য ছিল একটি সুন্দর জাতি গড়া এবং সেই জাতিকে সুন্দর সুন্দর নাটক উপহার দেওয়া। এছাড়া নয়ন মিয়ার আরো অনেক লক্ষ্য আছে। যেমন- গরীবদের সাহায্য করা। গরীবরা যাতে কষ্টে জীবন-যাপন না করে সেদিকে বিশেষ করে খেয়াল রাখা। নয়ন মিয়া এই সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল একটি সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন।

পারিবারিক জীবন
নয়ন মিয়া বিয়ে করেছিলেন ১৯৩৮ সালে। নয়ন মিয়ার বিয়ে হয়েছিল দুইবার। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আবার বিয়ে করেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে হাবিবা আক্তার, দ্বিতীয় মেয়ে হাসিনা আক্তার। তৃতীয় মেয়ে হুসনেয়ারা। তাঁর স্ত্রী হামিদা খাতুন এখনও জীবিত।

ক্ষেত্রভিত্তিক অবদান
তিনি সাধারণত অভিনয়ে অনেক অবদান রেখেছিলেন। তিনি যাত্রাদলকে মজবুত করার জন্য নানারকম সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটি সুন্দর জাতি গঠন করা এবং সুন্দর নাটক উপহার দেওয়া। এছাড়া তিনি ভূমিহীনদের ভূমি দিয়ে সহায়তা করতেন। আর গরীব মানুষদেরকে আর্থিক সহযোগিতা করতেন। তিনি গরীব মানুষদেরকে আত্মকর্মসংস্থান করে দিতেন। তিনি বিপদগ্রস্ত মানুষদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান
সুক্তিযুদ্ধে তিনি অনেক অবদান রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ প্রায় নয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এই নয় মাসের সাত মাস পর্যন্ত নয়ন মিয়া দিনাজপুরে ছিলেন। যে সময় নয়ন মিয়া বাড়ি ফিরে আসেন তখন তাঁর চেহারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। আর তাঁর কাপড় ছিল অত্যন্ত ছেঁড়া ও ময়লা। তিনি দিনাজপুরে আটকে পড়ার কারণে যুদ্ধে যেতে পারেননি। তবুও তিনি বাড়ি ফিরে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সাহায্য করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের থাকার জন্য ভূমি দান করেন।

সম্মাননা, স্বীকৃতি ও সম্বর্ধনা
নয়ন মিয়া বিভিন্ন কাজে অবদানের জন্য প্রায় একাধিক পুরষ্কার পেয়েছেন। তিনি অভিনয়ের জন্য কলকাতার গোল্ড মেডেল পান। এছাড়া তিনি ১৯৮০ সালে শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত জাতীয় যাত্রা উৎসবে পুরষ্কার পেয়েছিলেন। নয়ন মিয়া আর অন্যান্য কাজের জন্য অনেক পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

মৃত্যু
১৯৮৯ সালে ৭ ডিসেম্বর বুধবার দিবাগত রাত্রে নয়ন মিয়া পরলোকগমন করেন। তাঁর প্রতি রইল আমাদের অশেষ শ্রদ্ধা।

Share on Facebook
Gunijan

© 2017 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by .