<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 311 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 16 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 10 )
পারফর্মিং আর্ট ( 10 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 150 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 0 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
শহীদ খান
 
 সাহিত্য কথা - জাকিয়া সুলতানা
trans
ভূমিকা
'বাংলা সাহিত্যে সমুদ্রে সুবাতাস বইয়ে
নৌকা খুলিয়া দাও, পাল উড়াইয়া দাও
আর তাহাতে লিখিয়া দাও শ্রী মধুসূদন।' [বঙ্কিমচন্দ্র]
মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে যে অসামান্য অবদান রেখেগেছেন ঠিক মধুসূদন না হয়েও একজন ব্যক্তি যিনি বাংলা সাহিত্য, নাটক সমাজ ও সাস্কৃতিক অঙ্গনে এমনকি সমাজ কল্যাণ-এ যিনি আত্মনিয়োগ করেছেন, শিক্ষার আলোর মশাল জ্বালিয়ে সমাজকে শিক্ষিত করে তোলা এবং যিনি একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, আবৃত্তিকার, উপস্থাপক, মুকাভিনেতা, সেট ডিজাইনার, নাট্যনির্দেশক, চিত্র শিল্পাট্য, কার্টুনিস্ট ইত্যাদি বহুগুণের অধিকারী তিনি হলেন আমাদের সমাজের একজন গুণীব্যক্তি একজন অধ্যক্ষ শহীদ খান। তিনি আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার।

জন্ম ও বংশ পরিচয়
আমাদের সুশীল সমাজে অনেক লোকের মধ্যে শহীদ খান অন্যতম। একাধিক গুণে গুণান্বিত এই গুণী ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৭ সালের ৩০শে জুন মোহনগঞ্জ থানার নগর বসন্তিয়া গ্রামে মামারাবড়িতে। তাঁর বাবার নাম আব্দুস সাত্তার মায়ের নাম জোবেদা আক্তার খোর্শেদা। তিনি ঝানজাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর নানা ছিলেন ব্রিটিশ আমলে ইউনিয়নের একজন প্রেসিডেন্ট। তিনি শিক্ষক ও সমাজ সেবক ছিলেন। তার নাম ছিল আজহার উদ্দিন মাস্টার। তিনি ১৮৯৪ সালে এসএসসি এবং ১৮৯৮ সালে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালে মারা যান। শহীদ খানের মা ছিলেন ৮ম শ্রেণী পাশ এবং বাবা ছিলেন ৫ম শ্রেণীর পাশ ব্যক্তি। অল্প পড়াশুনা থাকা সত্ত্বেও তিনি অনেক গুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি একজন আদর্শবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সমাজ সেবক ও শিক্ষকও ছিলেন।

শৈশবকাল
তাঁর শৈশব জীবন কেটেছে নেত্রকোণা জেলার অন্তর্গত দুর্গাপুর থানার ঝানজাইল গ্রামে। তাঁর বাড়িটা ছিল কংশ নদীর কাছেই। তিনি সময় পেলেই নদীর তীরে বেড়াতে আসতেন। নদীর তীরে বসে সাদা কাশফুল নিয়ে খেলা করতেন। নদীর স্রোতে বহমান পালতোলা নৌকা দেখে আনন্দ পেতেন। নদীর মনোহারিণী দৃশ্যাবলী তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে। তাঁর সাথে নদীর এক গভীর প্রেম সৃষ্টি হয়েছিল। নদীর প্রতিটি ঢেউয়ে তিনি এক অনাবিল ছন্দ খুঁজে পেতেন। বহমান স্রোতে অসংখ্য নৌকার গতির সন্ধত্তার হয়। নদীর দু'তীরের জনপদের জীবন চাঞ্চল্য তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে। এই সুন্দর ও অনাবিল প্রাকৃতিক পরিবেশে তাঁর বেড়ে উঠা। পরিবারের বড় সন্তানের সবটুকু স্নেহ তিনি পেতেন। খেলাধুলার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। ছোটবেলা থেকেই তাঁর কণ্ঠে একটা অনাবিল সুর ব্যঞ্জনা ছিল। নানার অনুরোধে এক মাসের পত্রিকা তাঁকে পড়ে শোনাতে হত। এটা এভাবে না ওভাবে পড়তে হবে। এভাবেই তাঁর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দিকে মনোনিবেশ হল। তাঁর কণ্ঠের এ যে ভাঁজ তা ঐখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি অনেক গুণের অধিকারী।

শিক্ষাজীবন
এমন একজন গুণী ব্যক্তির জন্ম এই জেলায় শুনে নিজেকে খুব গর্বিত মনে হচ্ছে। তিনি শুধু একাধিক গুণের অধিকারী নন তিনি সুশিক্ষিত সমাজের একজন ব্যক্তিও বটে। তাঁর শিক্ষা জীবন আমাদের সমাজে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছে। কারণ তিনি অর্থের জন্য নয় সমাজের কল্যাণে সমাজের স্বার্থে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু করেন ১৯৬৩ সালে। ঝানজাইল স্কুল থেকে ৫ম থেকে এসএসসি এবং আনন্দ মোহন থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি খুব তুখোর ছিলেন। শ্রেণীতে তিনি ১ম বালক হিসেবে পরিচিত। নামের দিক দিয়ে নয় গুণের দিক দিয়ে তিনি পরিচিত ছিলেন। স্কুল জীবনেই তিনি নাটকে অভিনয় করেন। 'ন্যায়ের পরিণাম' ও 'নিঃস্ব যারা'- এ দুটি নাটকে তিনি স্কুল জীবনে অভিনয় করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে B.S.S (Hons.) সমাজ কল্যাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই M.S.S (সমাজ কল্যাণ) পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ কল্যাণের উপর ISWR (Institute of Social welfare and Research) -এর গবেষণা করেন। তাঁর এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের কল্যাণ। সমাজের কল্যাণের জন্য তিনি নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পৈতৃক সূত্র অনুসারে তিনি সমাজ সেবক। তিনি শিক্ষা জীবনের মধ্য দিয়ে সমাজের কল্যাণের মশাল জ্বালিয়ে কল্যাণের পথে যাত্রা শুরু করেন। সমাজ কল্যাণের এই মশাল দিয়ে সমাজ থেকে বিভিন্ন অন্ধকার দূর করে আলোয় ভরে দিতে চান। সমাজের প্রতিটি পরতে পরতে তিনি সেবা কর্মের প্রসার ঘটাতে চান। আমার মতে তার শিক্ষা জীবনের মূল উদ্দেশ্য সফলকাম হয়েছে।

কর্মজীবন
প্রত্যেক মানুষ তার পার্থিব জীবনে অনেক কর্ম করে থাকেন। কর্মজীবন বলতে কাজ দ্বারা পরিচালিত জীবনকে বুঝায়। তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। তিনি সর্বপ্রথম ফুলবাড়ীয়ার কলেজে প্রথম শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। বর্তমানে তিনি নেত্রকোণা জেলার অন্তর্গত পূর্বধলা থানার পূর্বধলা ডিগ্রী কলেজ-এ অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। অধ্যক্ষ-এর পাশাপাশি তিনি আরো জনসেবামূলক কাজে নিয়োজিত আছেন।

পারিবারিক জীবন
এমন একজন গুণী ব্যক্তি হওয়া সত্বেও তিনি খুব সাধারণ জীবন-যাপন করেন। তিনি মধ্যবিত্ত পরিবারে বসবাস করেন। তাঁর স্ত্রীর নাম রওশন আরা বেগম। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে।

ক্ষেত্রভিত্তিক অবাদন
'Life is short but Art is long '. মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মে। মানুষ মারা গেলেও তার কর্ম কখনো মরে না। তার অবদানের কখনো মৃত্যু নেই। গুণীব্যক্তিজন তাদের কর্মের মধ্যে দিয়ে এ পৃথিবীতে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকেন। তারা না থাকলেও তাদের কর্ম বেঁচে থাকে মানুষের মাঝে আজীবন। তেমনি একজন গুণীব্যক্তি হলেন শহীদ খান। যিনি তাঁর স্বার্থের কথা ভুলে সমাজের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি কলেজ ও স্কুল প্রতিষ্ঠিত করেন। দেশকে একটি শিক্ষিত সমাজ উপহার দেবার জন্য তাঁর এই মহৎ উদ্দেশ্য অনস্বীকার্য। তিনি যৌথ ও এককভাবেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেন। নিজ বাড়িতে তিনি নিজ উদ্যোগে একটি হাইস্কুল ও একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন। স্কুলটির নাম ঝানজাইল হাইস্কুল ও কলেজটির নাম ঝানজাইল টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজ। তিনি কারিগরি শিক্ষাকেও গুরুত্ব মনে করেন। এর জন্যই এই কলেজটি স্থাপন করেন। নিজ এলাকায় কারিগরি শিক্ষা প্রসারের জন্য এই কলেজটি স্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি ময়মনসিংহ জেলায়ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেন। এগুলোর মধ্যে MIST ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ময়মনসিংহ কমার্স কলেজ এবং ময়মনসিংহ হোম ইকনোমিক্স কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তিনি যে শুধু উল্লেখযোগ্য হলেন তা ঠিক নয় তিনি দেশের মানুষের কাছে শিক্ষার আলোকে সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তিনি কল্যাণের এক নজির সৃষ্টি করেছেন। সর্বোপরি তিনি বর্তমান স্বার্থলোভী সমাজের জন্য একটি আদর্শ। নিজেকে সাদা মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি আমাদের কাছে আয়নারমত। আয়নায় মুখ দেখে আমরা যেমন রূপসজ্জা করি, ঠিক তেমনি তাকে দেখে আমাদের সমাজের কল্যাণে একজন আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

সম্মাননা, স্বীকৃতি ও সম্বর্ধনা
একজন গুণী ব্যক্তি মানে তার মধ্যে অনেক গুণের সমাহার। শুধু ক্ষেত্র ভিত্তিক অবদান থাকাটা আসল নয়। সকল গুণের গুনান্বিত ব্যক্তিকেই গুণী বলে নির্বাচন করা যায়। আমি একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করেছি যিনি অনেক গুণের অধিকারী। শুধু গুণীই নয় উনার যথেষ্ট সম্মান ও স্বীকৃতি রয়েছে। শুধু সমাজ কল্যাণ নয় আরো অনেক গুণ তাঁর মাঝে রয়েছে। সম্মাননা হিসেবে তিনি ১৯৭৫ সালে জাতীয় নাট্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ অভিনেতা নির্বাচিত হন। সেই সাথে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ১৯৮০, ১৯৮১ সালে আবৃত্তি, উপস্থিত অভিনয়, একক অভিনয় (চুটকি কলা)-এ ১ম স্থান অধিকারী হন।
BTV -এর তালিকাভুক্ত নাট্যকার হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭৮-৮৩ সাল পর্যন্ত BTV -তে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'পরিচয়'-এ উপস্থাপন করেন। এ ছাড়াও তিনি 'নবকল্লোল', জন পরিক্রমা, ইউনিভার্সিটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ১৯৭৮-৮৩ সাল পর্যন্ত এককভাবে উপস্থাপনা করেন। ১৯৭৮ সালে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে আয়োজিত 'কার্টুন' প্রদর্শনীতে আশিকুল হুদা ও শহীদ খানের প্রথম একক কার্টুন প্রদর্শনী করা হয়। তিনি বিভিন্ন সেট ডিজাইন করার ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। তিনি একজন মুকাভিনেতা ছিলেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি নাটক করা শুরু করেন। 'ন্যায়ের পরিনাম' ও 'নিঃস্ব যারা'- তাঁর প্রথম নাটক। BTV -তে আয়োজিত অনেক নাটক-এ তিনি অভিনয় করেন। এর মধ্যে 'অপারেশন কাঁকন পুর' অন্যতম। নাটক-এ অভিনয় করার পাশাপাশ তিনি নাটক লেখের এবং পরিচালনা করেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য নাটক হলঃ 'ফুলবাড়ীয়ার বাসযাত্রী', 'ফুলবাড়িয়ার ফুলবানু', 'ফুলবাড়ীয়ার মানুষ'। এ নাকটগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি ফুলবাড়ীয়ার চিত্র তুলে ধরেছেন। মানুষের জীবন-যাপন পদ্ধতি, বিভিন্ন সমস্যা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। এ নাটকগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি ফুলবাড়ীয়ার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তার সমাধান করার প্রয়াস করেছেন। এ নাটকগুলো নিজে লেখে নিজে পরিচালিত করেছেন। তিনি অনেক মঞ্চ নাটক করেছেন। এগুলোর মধ্যে 'বহুরূপী', 'যান্ত্রিক', 'অক্ষর' উল্লেখযোগ্য। এই নাটকগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর চরিত্রের এক সুনিপুণ দিক ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৯৭২ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন সাস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। এগুলোর মধ্যে সঙ্গীত, মালঞ্চ, মংস্থা ঢাকা। ময়মনসিংহ-এ অবস্থিত বিভিন্ন নাট্য সংগঠনের সাথে তাঁর সম্পর্ক আছে। এগুলো হলঃ যান্ত্রিক নাট্য গাষ্ঠী ও অক্ষর নাট্য গোষ্ঠী। এ নাট্য সংগঠনে তিনি বিভিন্ন সময় নাটকে অভিনয় করেছেন, পরিচালনা করেছেন। তাঁর পরিচালিত সর্বাধিক নাটকগুলো তিনি বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্য করে তৈরী করেছেন। নাটকগুলোতে যেন সমাজের কল্যাণের এক মায়াবী রেশ খুঁজে পাওয়া যায়। সবক্ষেত্রেই তিনি সমাজের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েছেন অত্যন্ত জোরালোভাবে। সমাজের প্রতি তার গভীর প্রেম, টান রয়েছে। এ সম্পর্কে কোন দ্বিধার অবকাশ মাত্র নেই। সমাজের কল্যাণকে তিনি মাথায় রেখে তাঁর নাটকগুলো নির্মিত করেছেন। তিনি সমাজ ও সমাজের মানুষকে ভালবাসেন তাদের শান্তির জন্য তিনি অক্লান্ত প্রচেষ্টা করেন।

উল্লেখযোগ্য ঘটনা
পৃথিবীর এই ক্ষণিক সময়টুকুতে সবারই কিছু না কিছু ঘটনা আছে। দুঃখ ও হাসি এসব অনেক মুহূর্ত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটা মুহূর্ত মানুষ তার মনের মণি কোঠায় চিরদিন তালাবদ্ধ করে রাখে। এগুলো মাঝে মাঝে তাঁকে দারুণভাবে উত্তেজিত করে তোলে। শৈশবের ঘটনা হলে সেগুলো তাঁকে শৈশবের জীবনের মুহূর্তগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। তখন তাঁর সে সময়টাতে আবার ফিরে আসতে আকুল চেষ্টা করলেও সে আসতে পারে না। তেমনি তাঁর এ ৫৩ বছর বয়স পর্যন্ত অনেক ঘটনা আছে। এগুলোর মাঝে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা যা তাঁর যৌবনকালে ঘটেছিল তা বলা হল। ১৯৭১ সালা। তখন তিনি ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তাঁদের বাড়ির চারদিকে বেত ও মুক্তা গাছের সমারোহ। বলতে গেলে বেত ও মুক্ত গাছ যেন তাঁদের বাড়িটাকে তাঁর নিজের সন্তানের মত আগলে ধরে আছে। তাঁদের বাড়ির বৈঠকখানার সামনে পাঞ্জাবীরা তাদের বাংকার করেছে। তাঁদের গ্রামের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারায়ন চন্দ্র ও বীরেন্দ্র চন্দ্র। তাঁরা এখনও বেঁচে আছেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন গভীর রাতে তাঁরা তাদের বাড়িতে আসেন। তাদের ঘরের ভেতর বেতের তৈরী একটি মাচা ছিল। তারা দু'জন বাশেঁর দরজাটা ঠেলে মাচার ভেরত ঢুকেন। এখানে তাঁরা কিছু খাবার ও বিশ্রাম নেয়ার জন্য এসেছিল। তিনি ঠিক জানতেন না মুক্তিযোদ্ধা তাঁদের বাড়িতে আছেন। তিনি তাঁর মার সাথে রাতে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ মাচার ভেতর থেকে শব্দ ভেসে আসল। শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। তাঁর মা এই শব্দটি শুনতে পান এবং ঘুম থেকে উঠে বসেন। তিনি তাঁর মাকে বলতে চেয়েছিলেন যে, ঘরে চোর আসছে কিনা। ঠিক তখনই তাঁর মা তাঁর মুখ চেপে ধরেন। তিনি তাঁকে কথা না বলার জন্য বলেন। তিনি তাঁকে বিছানায় রেখে একটি পুটলিতে কিছু জিনিস দেন। কি দিয়েছিলেন তিনি তা জানেন না। নারায়ন ও বীরেন্দ্র চন্দ্র মাচা থেকে নামলেন। তাঁর মা ছিলেন একজন সাহসী, বুদ্ধিমান ও চালাক মহিলা। বৈঠকখানায় পাঞ্জাবী থাকলেও তিনি অতি সাবধানে তাঁর ঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি খুব ধীরে দরজা খোলেন। বাথরুমে যাওয়ার মিথ্যে অভিনয় করে পাঞ্জাবীদের অবস্থানটা বুঝে নিয়েছিলেন। তখন তিনি ঘরে ঢুকে তাদেরকে পরিস্থিতির কথা বললেন। ফলে তাঁরা অতি সাবধানে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। তাঁরা বেত ও মুক্তার বাগানের ভেতর দিয়ে তাঁদের গন্তব্যে চলে যায়। চোখের সামনে এমন সাহসীপূর্ণ ঘটনা দেখে তাঁর শরীর শিহরিয়ে এঠে। এটা তাঁর জীবনের স্মরণীয় ঘটনা। ঘরের সামনে শত্রু আর ভেতরে মুক্তিযোদ্ধা। আসলে তা এক স্মরণীয় ঘটনা।
মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা তাঁর যৌবনকালে ঘটেছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। মুক্তিযোদ্ধারা যখন দেশ স্বাধীন করেছিলেন তখন তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য তিনি ও কয়েকজন বন্ধুরা তাঁদের কাছে যান। একজন মুক্তিযোদ্ধা তাঁর ভাঙা আর্মসটা তাঁর ও তাঁর আরেক বন্ধুকে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। তখন তিনি আর্মসটা মুক্তিযোদ্ধাটাকে ফিরিয়ে দেবার জন্য তাকে খুঁজে নিলেন। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধাটাকে খুঁজে পেলেন না। তারপর তিনি সেই ভাঙা আর্মসটা মিত্রবাহিনীর একজনকে দেখালেন। তিনি আর্মস-এর নাম্বার দেখে ঐ মুক্তিযোদ্ধাকে সনাক্ত করেন। তারপর ঐ মুক্তিযোদ্ধা যখন আসল তখন তাঁর আর্মসটা ফেরত নিল। পরে শুনা গেল যে, দেশকে মুক্ত করার পর মায়ের ভালবাসার টানে তিনি মাকে দেখতে বাড়িতে চলে যান। দেশ ও মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা তাঁর পরিণত বয়সে হয়েছিল। নাটক করাকালীন এই ঘটনাটি হয়েছিল। ঝানজাইল অঞ্চলে আয়োজিত একটি নাটক 'মা, মাটি ও মানুষ'-এই নাটকটির জন্য অনেক ভাল ভাল অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছে। অনেক টিকেট বিক্রি হয়েছে তার জন্য। তিনি ছিলেন সেই নাটকের একজন দর্শক। নাটক শুরু হল। নাটকের একজন অভিনেতা তাঁর সংলাপ বলতে উল্টা-পাল্টা করছে। তখন ঐ নাটকের পরিচালক শহীদ খানকে দেখে তাঁকে হল রুমে আসার জন্য বলেন। তাঁকে ঐ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বলেন। তখন তিনি অবাক হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, আমি নাটকটি কখনও করেনি, সংলাপ মুখস্থ না। আমি কিভাবে করব? তখন পরিচালক বলল, আমি পর্দার আড়াল থেকে বলব। তারপর তিনি ঐ নাটকে অভিনয় করেন। এমন উপস্থিত অভিনয় তিনি কখনও করেননি। এটি তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এমনও আরো অনেক ঘটনা তাঁর জীবনে রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান
মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি। তবে তিনি পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নানা রকম খাবার-দাবার, টাকা ও সাহায্য দিয়ে অবদান রাখেন।
অন্যান্য প্রতিযোগিতায় তিনি অবাদন রাখেন। যেমন- তিনি জনপ্রচারের জন্য কাজ করেন। দেশের জন্য কাজ করেন।

পরিশেষে তাই বলতে চাই, তিনি সবদিক দিয়েই একজন গুণী ব্যক্তি। তাঁর চারিত্রিক দিক দিয়ে তিনি একজন অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও ভাল মানুষ। সাংস্কৃতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে। আমি এমন একজনকে গুণীব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত করেছি, যার মধ্যে সকল গুণের সমাহার রয়েছে। তাঁকে নিয়ে আমার জীবনের প্রথম গুণী ব্যক্তির উপর লেখা। আমি আসলে খুবই ভাগ্যবান এমন গুণীব্যক্তির জীবনী লিখতে পেরে। আমি উনার দীর্ঘায়ু কামনা করি সৃষ্টি কর্তার কাছে। কবিতার ভাষায় বলতে চাই, ...
'আমার জীবন ধন্য হল
তোমার কথা লেখতে পেরে
তোমার জন্য খোদার কাছে
প্রার্থনা করি সকলের তরে।'

Share on Facebook
Gunijan

© 2017 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by .